শেরপুর সংবাদদাতা।। শেরপুরে ঝুলে থাকা প্রায় আড়াই হাজার মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল বা নিস্পত্তির লক্ষ্যে জেলা পুলিশের তরফ থেকে এবার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট বাদী এবং আসামিদের আত্মীয়-স্বজনদের দুশ্চিন্তা ও বাড়তি ঝামেলা লাঘব হওয়ার পাশাপাশি মামলাগুলো দ্রæত নিস্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এটি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন শেরপুরের আইনজীবীরা। অন্যদিকে ওই উদ্যোগে সাড়া দিয়ে আদালত ও আইনের প্রতি সম্মান দেখাতে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন গ্রেফতারি পরোয়ানায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
জানা যায়, শেরপুর সদরসহ ৫ উপজেলায় চলতি বছরের নবেম্বর পর্যন্ত মাদক, হত্যা, যৌতুক, নারী নির্যাতন, জমিসংক্রান্তসহ প্রায় আড়াই হাজার মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। এর মধ্যে সদর থানাতেই রয়েছে ৮ শতাধিক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা। গ্রেফতারি পরোয়ানাগুলো তামিলের জন্য প্রতিটি থানা পুলিশের একটি করে দল গতানুগতিক ধারায় কাজ করলেও প্রায় অধিকাংশ গ্রেফতারি পরোয়ানাই তামিল হচ্ছে না। দিন, মাস পেরিয়ে কোনটা পেন্ডিং থাকছে বছরের পর বছর। আর এ বিষয়টি মাথায় নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম পিপিএম।
সেই উদ্যোগের আওতা গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিল, জঙ্গী, মাদক, গুজব, ইভটিজিং নির্মূলে কমিউনিটির অংশগ্রহণে জেলা ও উপজেলায় বিশেষ শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে শহরের অষ্টমীতলাস্থ জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে আয়োজিত শান্তি সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, বিভিন্ন আদালত থেকে অনুপস্থিত/পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ হয়। সেই আদেশ তামিলের দায়িত্ব বর্তায় পুলিশের উপর। গ্রেফতারি পরোয়ানার সাথে শান্তির একটি সম্পর্ক থাকে। কাজেই তা তামিল বা নিস্পত্তি হলে আদালতের আদেশ যেমন মানা হয়, তেমনি সমাজে শান্তি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল না হলে অর্থাৎ কোন মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার না হলে ‘মামলা হলো বিচার হলো না’ এ প্রশ্ন তুলেন অনেকেই। তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আদালতের প্রতি ও আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমাদের সন্তান-ভাই, প্রতিবেশিদের মধ্যে যাদের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করতে হবে। এর মধ্য দিয়ে নাগরিক দায়িত্ববোধ ও বিবেককে জাগ্রত করে রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করা যেতে পারে। ওইসময় সমাবেশে উপস্থিত ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যগণসহ সকলেই দু’হাত তুলে আদালত ও আইনের প্রতি সম্মান দেখাতে অঙ্গীকার প্রকাশ করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় শান্তি সমাবেশে ইউপি চেয়ারম্যানদের মধ্যে আমির আলী সরকার, হাবিবুর রহমান হাবিব, আকবর আলী, আনোয়ার হোসেন সুরুজ ও আওলাদ হোসেন, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবীশ) অবিরত রায়, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল আলম ভুইয়াসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি পুলিশের কর্মকর্তা ও ওয়ারেন্ট ভুক্তভোগী পরিবারের বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
পরে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি কথা বলে তাদের পরিবারের সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে থাকা মামলার অবস্থা তুলে ধরেন ও খাতায় লিপিবদ্ধ করান। ওইসময় তারা সংশ্লিষ্ট আসামিদের দ্রæত সময়ের মধ্যে হাজির করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।
আবা/রাজু/ প্লাবন